Alltimebdnews24.com

Alltimebdnews24.com

আন্তর্জাতিক

মার্কিন হামলায় ইরানের ১০ হাজার মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ

ইরানে টানা সাত দিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এ হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের একটি পানি শোধনাগারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার সুপেয় পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হরমোজগান ওয়াটার অ্যান্ড ওয়েস্টওয়াটার কোম্পানির সিইও হামজেহ পুর বলেন, ইরানের জাস্ক কাউন্টির উপকূলীয় বুঞ্জি গ্রামে একটি পানি পরিশোধন পাম্পে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার জনসংখ্যার ২০টি গ্রামে সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।

পুর এই মার্কিন হামলাকে ‘ধারাবাহিক অপরাধ ও সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ হামলার ফলে সমুদ্র থেকে পানি তোলার একটি পাম্পিং স্টেশন এবং বুঞ্জি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্রামের বাসিন্দারা তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।

এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর একটি বিদ্যুৎ ও পানি পরিশোধন কেন্দ্রের একটি অংশে আগুন লেগেছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এর ফলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এজন্য কেন্দ্র ও এর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে সঙ্গেই সব কার্যক্রম ও জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ ও পানি উভয় নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিষেবার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক প্রযুক্তিগত ও কার্যক্রমগত পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে টানা ৭ রাত ধরে অভিযান পরিচালনা করছে সেন্টকম। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের (প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প) নির্দেশনা মেনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ‘ইরান পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামতে বাধ্য হবে।

শুক্রবার রাতের হামলার পর তাৎক্ষণিক এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন হামলা অব্যাহত রাখে, সেক্ষেত্রে ইরান নিজেকে শুধু পাল্টা হামলার মধ্যেই সীমিত রাখবে না; পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধে নামবে এবং সেক্ষেত্রে (মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের) কোনো রাজনৈতিক সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে না।

সূত্র:  আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *