পর্দার অন্তরালে গনমানুষের লিটন বাশার!!

0
220
লিটন বাশার
লিটন বাশার

Sharing is caring!

লিটন বাশার! নামটি শুনলেই শরীরের ভিতর কেমন যেন একটু মুচরে ওঠে। না এ সুখের কোনো অনুভুতি নয় এক দুঃখ ভারাক্রান্ত মনের স্বজন হারানোর মুচরানো। বরিশাল শহরে যত মানুষই কোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অংগনের সাথে মিশেছেন এই নামটি অবশ্যই একবারের জন্যহলেও শ্রবনকরেছেন বলে বোধগম্য হয়। কারন, লিটন বাশার ছিলেননা কোনো দল বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্টীর তিনি যে ছিলেন গনমানুষ এবং নির্যাতিত নিপীড়িত সংবাদকর্মিদের শেষ আশ্রয়স্থল।
২০১২/১৩ সাল নাগাদ বিতর্কের সাথে জড়িত হওয়ার সুবাদে যুক্ত হয়েছিলাম তৎকালীন ডিবেটার্স ক্লাস্টার অব বরিশাল বা বর্তমান ডিবেটার্স ক্লাব অব বরিশালের সাথে। আর এই সংগঠনেরই প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন লিটন বাশার ভাই। সেই সুবাদে অভি ভাইয়ার সাথে তার নিকট প্রায়ই যাওয়া হত তার অফিসে যার ফলে একটু আধটু হয়তো চিনতেনও। আর এই বিতর্ক জগতের পাশাপাশি এরমধ্যে ২০১৩তেই বরিশালের সাংবাদিক মহলের সাথেও ভালোই জড়িত হয়ে গেছি। এখনতো সবার সাথে সাথে লিটন বাশার আমারও বস। তবে কেনো যে তিনি বস তা বুঝেছিলাম ফটো সাংবাদিক টিটু ভাইয়ের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু পরবর্তি আন্দোলন আর মাহিন্দ্রার আলফা যখন বরিশালে আসে এবং যখন অনেক মানুষই এর দ্বারা আহত হতে থাকে তার প্রতিবাদে এটি বন্ধ করার দাবি আদায়ের আন্দোলনে।
তিনি যেমনি ছিলেন সৎ এবং মানবিক তেমনি অনেক সাহসীও ছিলেন যার তুলনা তিনি নিজেই। যৌক্তিক সত্যের পক্ষে ছিলেন সর্বদাই অবিচল!
যার প্রমান তিনি প্রেসক্লাব নির্বাচনে বারবার দিয়েছেন।

- Advertisement -

---
শেষবার ঘাসফড়িং পত্রিকাটা যখন বের করেছিলাম তখনও অভি ভাইয়ার সাথে তিনিসহ আরো অনেকেই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিলেন তারই কারনে। ব্যর্থতা আমার শেষ পর্যন্ত আর সক্ষম হইনি পরবর্তিতে। তবে ব্যক্তিগত কার্যক্রম এখনও চলমান এবং চলবে ইনশাহআল্লাহ।
এইতো ফেব্রুয়ারিতে সাংবাদিক পরিষদের পিকনিক থেকে আসার দুদিন বাদে এক সন্ধ্যায় সবাই ভাইয়ার অফিসে গিয়েছিলাম আতশবাজি ফুঁটাতে যা ছিল তার ছোট্ট ছেলেটিকে খুশির নিমিত্তে।আর আতশবাজির ঝলকানি শেষে একখানা ধন্যবাদও পেয়েছিলাম বটে।
তবে সবথেকে কষ্টদায়ক ঘটনা জুমাতুল বিদার দিনের কথা মনে পড়লে আমি রিক্সাতে বটতলা যাচ্ছিলাম আর ভাইয়া আসছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে রিক্সায় সাথে তার অমুল্য রতনটিও ছিলো।
যদিও এসব স্মরন করা মানে সবার সামনে লিটন বাশারের স্মৃতিচারন করা আর তার প্রিয়জনদের মানসিকভাবে কষ্ট দেয়াই। এই সামান্যটুকু লিখতেও লেখকেরও যে কতখানি অশ্রু বিষর্জিত হয়েছে তা শুধু সে ই অবগত।
তবে আফসোস একটাই প্রিয় মানুষ
টাকে শেষ বিদায়ও জানাতে পারলাম না।

হয়তো তার পরবর্তি সিরিয়ালটাও এমনই অন্য কোনো মানবের। শেষ বিদায়তো নিতেই হবে তার পূর্বে যেন সবাই ই শূধরে যাই ভালো মানুষ হয়ে যেতে পারি। সবাইতো আর লিটন বাশার হতে পারব না তবে তার আদর্শকে যেন লালন করতে পারি মনে প্রানে অন্তরে আর সে অনুযায়ি কাজও করতে পারি এটাই কামনা মহান আল্লাহ পাকের দরবারে।
তবে তিনি যেন ভালো থাকেন পরপারে আল্লাহর কাছে এইটাই দুআ থাকবেন তার জন্য।
-একজন ক্ষুদ্র শুভাকাঙ্খি!

(Visited 8 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here