ভ্যাট আইন স্থগিতে ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব কম

0
255

Sharing is caring!

ভ্যাট আইন স্থগিত করায় ২০ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

- Advertisement -

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের দাবির প্রেক্ষিতেই কিন্তু এই ভ্যাট আইন স্থগিত করা হয়েছে। মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন, এতে হয়ত ক্ষতি হবে। ক্ষতি কিন্তু হয়েছে। এই ভ্যাট ও মোবাইল ফোনের আয় ধরেই কিন্তু বাজেট করা হয়েছিল। ভ্যাট আইন স্থগিত করায় ২০ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হবে। আমাদের যেভাবেই হোক ব্যবস্থা করতে হবে। হয় আমাদের ব্যাংক থেকে লোন নিতে হবে অথবা আমাদের উন্নয়ন বাজেট কাটছাঁট করতে হবে। তারপরও মাননীয় সংসদ সদস্যদের মতামতের প্রতি অর্থমন্ত্রী সম্মান দিয়েছেন এবং ভ্যাট স্থগিত করেছেন। এটা বাস্তবতা।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ১৪টি বাজেট দিয়েছি। যেভাবে আমরা বাজেট দিয়েছি তাতে কিন্তু জনগণের কল্যাণ হয়েছে। আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, জনগণ অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হয়েছে। এটাই হলো বাস্তবতা।  অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। বাজেট দেয়ার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাজেট দেয়ার আগে আলোচনা করে মানুষের প্রত্যাশা জেনেই কিন্তু সে অনুযায়ী বাজেট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা যেভাবে বাজেট বৃদ্ধি করেছি, এতবড় বাজেট এর আগে কখনও কিন্তু দেয়া হয়নি। আমি সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ করব নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়টা যেন সঠিকভাবে হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের লক্ষ্যটাই হচ্ছে গ্রামের অর্থনীতিকে উন্নতি করা। মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা। আমাদের উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমরা করতে পেরেছি সেটা হচ্ছে আয় বৈষম্য ও দরিদ্র বৈষম্য হ্রাস করতে পেরেছি। তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের উন্নয়নটা দরিদ্র মানুষের কাছে পোঁছেছে। এটাই আমাদের নীতিমালা। তেল মাথায় তেল দেয়া নয়, ধনীকে আরও ধনী করা নয়। উন্নয়নটা যেন হতদরিদ্র মানুষের দৌড়গোঁড়ায় পৌছাতে পারি সেভাবেই আমরা কাজ করেছি।’

তিনি বলেন, এই পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন, সেটা সরকারি দলের হোক আর বিরোধী দলের হোক। ৭০ অনুচ্ছেদ সংবিধানে আছে, অনেকেই সেটার সমালোচনা করেন এবং ভুল ব্যাখ্যা দেন। আমার মনে হয় এই বাজেটের আলোচনায় আমাদের সংসদ সদস্যরা যেভাবে বক্তব্য রেখেছেন, বিরোধী দল তো বিরোধিতা করবেই। সব থেকে বেশি আমি দেখেছি আমাদের সরকার দলীয় সদস্যরাই সমালোচনা করেছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট দিয়েছেন। বাজেটের সমালোচনা করেছেন, সরকারের সমালোচনা করেছেন এবং তাদের এই আলোচনাতে অর্থমন্ত্রী কিন্তু বাজেটে বেশকিছু সংশোধনী এনেছে।

সংসদ সদস্যরা কিন্তু জনপ্রতিনিধি। আমাদের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। আর সেই জনগণের প্রতিনিধি সংসদ সদস্যরা। তারা স্বাধীনভাবে বক্তব্য রেখেছেন। এখানে কিন্তু কাউকে বাধা দেয়া হয়নি, হুক করা হয়নি। কাজেই সংসদ সদস্যদের যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, এটাই কিন্তু প্রমাণিত সত্য।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের উন্নয়নটা শুধু মুখের উন্নয়ন না, সেই সঙ্গে আমি আমরা খাদ্য উৎপাদন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আমরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি। বন্যায় হাওড় এলাকায় খাদ্য কিছু নষ্ট হয়ে গেছে বলে আমরা বসে থাকিনি। সেই সঙ্গে আমরা ঘাটতি পূরণ করে, সামনে এই বন্যাটা হয়তো আরও বড় আকারে আসতে পারে। সেই বিষয় বিবেচনা করে ইতোমধ্যে কিন্তু আমরা বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে মজুত করে রেখেছি। যাতে করে আমাদের কোন রকম বিপদ হলেও দেশের মানুষ যেন কষ্ট না পায়।

তিনি বলেন, ‘যে সব জায়গায় বন্যা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে টিম করে সব এলাকায় ত্রাণ আমরা পাঠিয়েছি। আমাদের ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী নিজে সব জায়গায় যাচ্ছেন। প্রতিটি এলাকায় ত্রাণ দেবার সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা আছে। আমরা এয়ার ফোর্সের হেলিকপ্টার রেডি রেখেছি। আমরা হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ পোঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে রেখেছি।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here