মনে রাখা উচিৎ পথশিশুরাও আমাদের সমাজের সন্তান

0
152

Sharing is caring!

- Advertisement -

কলামিস্টঃ আর.এম।।

ঢাকা সহ সারা দেশে কয়েক লাখ পথশিশু রয়েছে যাদের ৮০ ভাগেরই জন্ম ফুটপাথে। বলা চলে পথেই জন্ম পথেই বাস। স্বজনহারা অনেক শিশুও শহরে এসে এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। অবহেলা-অযত্নে বেড়ে ওঠা এই শিশুদের ‘টোকাই’, ‘ছিন্নমূল’ বা ‘পথশিশু’ বলা হয়।
সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য মতে, বাংলাদেশের ৭৫ ভাগ পথশিশু রাজধানীতে। পথশিশুদের মধ্যে শতকরা ৫৩ ভাগ ছেলে আর ৪৭ ভাগ মেয়ে। নোংরা পরিবেশ ও অপুষ্টিতে বেড়ে ওঠা এসব শিশুর ৮৫ ভাগই রোগাক্রান্ত। পথশিশুদের জীবনযাপন অত্যন্ত দুর্বিষহ। বেশির ভাগ সময়ই রাস্তা, পার্ক, ট্রেন-বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, সরকারি ভবনের নিচে ঘুমায় এবং প্রতিনিয়তই নাইটগার্ড কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হয়। নোংরা স্থানে চলাফেরা ও ঘুমানোর কারণে অনেকেই চর্মরোগে ভোগে। এই পথশিশুদের একটি বড় অংশ শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পৌঁছার আগেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, মাদক বিক্রি, পিকেটিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। এমনকি ভাড়ায় কাউকে খুন করার কাজেও ব্যবহৃত  হচ্ছে এদের কেউ কেউ। এই ধরনের একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন দৈনিকে।

বিআইডিএস ও ইউনিসেফের এক গবেষণা মতে, দেশে নয় লাখ ৭৯ হাজার ৭২৮ জন পথশিশু রয়েছে। কেবল ঢাকা শহরে রয়েছে সাত লাখ পথশিশু। চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৪ জনে। আর ২০২৪ সাল নাগাদ সংখ্যাটা হবে ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৩৩০ জন। পথশিশুদের বেশির ভাগই কোনো না কোনোভাবে মাদক সেবন করে।

এ কথা সত্য যে, পথশিশুদের অপরাধপ্রবণতা কমাতে সরকারি-বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলে আসছেন। তবে যা হচ্ছে তা প্রয়োজের তুলনায় খুবই কম। এই সংখ্যাটা বাড়াতে হবে। পথশিশুদের এই জীবনচিত্র চরম সঙ্কট হিসেবেই দেখা উচিত। এ সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরো ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। পথশিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। পথশিশুদের বিভিন্ন সামাজিক কাজে যুক্ত করা গেলে ধীরে ধীরে অপরাধপ্রবণতা কমে আসতে পারে। এদের বয়সভেদে স্কুলে ভর্তি ও নৈতিক শিক্ষা নিতি করে গড়ে তোলা দরকার।

পথশিশুদের ঈদ কেমন কাটল কোথায় কাটল কিভাবে কাটল  আমরা যারা বিত্তবান আছি তাদের ভাবতে হবে। আমাদের সমাজে প্রচুর ধনী আছেন যারা তাদের সন্তানদের ঈদ কেনাকাটায় প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। অনেক টাকা খরচ করেছেন। আর এসব খরচ থেকে যদি কিছু টাকা বাঁচিয়ে পথশিশুদের দেন, তবে তাদের ঈদ আনন্দ পূর্ণাঙ্গতা পাবে। অন্য দশজন শিশুর সাথে পথশিশুরাও ঈদ আনন্দে কাটাতে পারে।
আমরা অহেতুক অনেকে অনেক রকম অর্থ ব্যয় করি। আবার কেউ কেউ অপচয়ও করি। আমরা যদি একটু সংযমী হয়ে কিছু টাকা বাঁচিয়ে পথশিশুদের দেই তবে তা দিয়ে তাদের সংসার চলে যাবে। আমাদের দেশে যত মানুষ জাকাত দেয়ার যোগ্য তারা যদি হিসাব করে প্রকৃত অর্থে জাকাত দেই তা হলে পথশিশুদের আর না খেয়ে থাকতে হবে না।

আমরা সবাই নিজের এবং নিজের সন্তানদের জন্য করা বাজেট একটু কমিয়ে সে টাকা দিয়ে যদি কয়েকজন পথশিশুকে নতুন পোশাক কিনে দেই তবে পথশিশুদের খালি গায়ে থাকতে হবে না। আসুন আমরা সবাই যার যার সাধ্যমতো পথশিশুদের মধ্যে সাহায্যের হাত বাড়াই, যাতে ওরা আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে বেশি অর্থের প্রয়োজন নয়, শুধু প্রয়োজন একটু সহযোগিতার মনোভাব। অথচ সে সহযোগিতার মনোভাবেরই আমাদের খুব অভাব। আমরা নিজেদের জন্য অনেক খরচ করি। কিন্তু একবারও ভাবিনা এসব শিশুর কথা। অথচ আমাদের একটু সাহায্য এদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। আমাদের মনে রাখা উচিত এসব পথশিশু আমাদের সমাজের সন্তান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here