বাবুগঞ্জে আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন কাজী দুলাল-আজাদ-ফারজানা

0
13

আগামী ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাবুগঞ্জে নির্বাচনী নানান জল্পনা-কল্পনা আর উত্তাপ-উত্তেজনা ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত দলীয় একক প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগের সংগঠক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক দুলালকে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সদস্য ইকবাল আহমেদ আজাদকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং বরিশাল জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা বিনতে ওহাবকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

- Advertisement -

বাবুগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রায় ১ ডজন হেভিওয়েট প্রার্থীর সাক্ষাৎকার গ্রহন শেষে দক্ষিণাঞ্চলের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির শেরালস্থ বাসভবনে বুধবার রাতে বাবুগঞ্জের আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনীত প্রার্থীদের ছবিসহ ফরম কেন্দ্রে পাঠানো হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণাসহ তাদের অনুকূলে স্বাক্ষরিত নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এবার আলোচনার সর্বাগ্রে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব কাজী ইমদাদুল হক দুলাল। ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগার হিসেবে তিনি দলের তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের কাছে সমাদৃত। একদা আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিনে দলকে সংগঠিত করার ব্যাপারে তার অসামান্য অবদানের কথা একবাক্যে স্বীকার করেন প্রায় সবাই। বিগত ২০০৯ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি।

তবে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান ছিল না বিধায় ২০০৯ সালে তার সাথে দলের সাধারণ সম্পাদক এস.এম খালেদ হোসেন স্বপন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার কারণে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত বাবুগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান পদটি হারায় আওয়ামী লীগ। তখন বিএনপি প্রার্থী সুলতান আহমেদ খান নির্বাচিত হলেও কাজী দুলাল ও স্বপনের পাওয়া মোট ভোট ছিল বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় পৌনে দু’গুণ বেশি। দীর্ঘ ত্যাগ ও আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে এবার নৌকার মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক দুলাল। সেই লক্ষ্যে নিভৃতে বহুদিন থেকে কাজও করে গেছেন। এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং নৌকা মার্কার পক্ষে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি।

এদিকে বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগের সংগঠক ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম হাওলাদারের বড়ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইকবাল আহমেদ আজাদ এবার উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সফল সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রাজনীতিবিদ পিতার ইমেজ আর নিজের সাংগঠনিক মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। পোস্টার-লিফলেট নিয়ে আগাম প্রচার-প্রচারনা এবং গণসংযোগও শুরু করেছিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে। তবে তার রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন বিনয়ী ও সুদর্শন এই সাবেক ছাত্রনেতা।

বিগত ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া ফারজানা বিনতে ওহাব এবার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে তিনিও শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক অভিভাবক জননেতা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির ইচ্ছানুযায়ী এবার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। বাবুগঞ্জে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধের বেইজ কমান্ডার শহীদ আবদুল ওহাব খান তনয়া ফারজানা ৫ বছর ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালে বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডের কারণে সর্বমহলে প্রশংসিত হন। ২০১৪ সালে চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনে তিনি রাজনৈতিক মেরুকরণে হেরে গেলেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মর্যাদাপূর্ণ জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বরিশাল জেলা পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড (বাবুগঞ্জ) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here