বরিশালে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারী ও প্রতারক চক্রের সক্রিয় ১০ সদস্য গ্রেপ্তার

0
197

Sharing is caring!

শুধু রাজধানীতেই নয়, পাপিয়াদের মতো অনেকেই রয়েছেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। যারা নারীদের নিয়ে ব্যবসা করেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনই একটি পাপিয়া চক্রের সন্ধান মিলেছে বরিশাল নগরীতে।

যারা পাপিয়ার মতো করেই নিজ ঘরের মধ্যে কিংবা হোটেলে নারীদের দিয়ে ব্যবসা ও প্রতারণা করে আসছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রটির ১০ সদস্যকে আটক করেছে বরিশাল মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। ১১ই মার্চ মঙ্গলবার জনৈক অভিযোগকারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে  রাত্র ০০.১০ ঘটিকা হইতে গোয়েন্দা শাখা, বিএমপি, বরিশালের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ জাহাঙ্গীর মল্লিককের নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক  মোঃ ছগির হোসেন এর নেতৃত্বে এসআই মোঃ মহিউদ্দিন আহম্মেদ পিপিএম এবং সঙ্গীয় টিমের সহায়তায় কোতয়ালী মডেল থানা ও কাউনিয়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায়কারী, ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারী ও প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন।

আটককৃতরা হলো- কাউনিয়া মহাশ্মশান সংলগ্ন সৈয়দ মঞ্জিলের ভাড়াটিয়া মকবুল হোসেন ও তার স্ত্রী লিজা বেগম, ফকির বাড়ি রোড চৌধুরী ভ্যালির বাসিন্দা আশার মা নামে পরিচিত খুশি বেগম, সরকারি বিএম কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স চুড়ান্তে বর্ষের ছাত্রী ফারজানা বিনতে ঝুমুর, কালিবাড়ি রোড শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনের বাসিন্দা জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা মনি, কাউনিয়া প্রধান সড়কের বাসিন্দা সেলিম হাওলাদার ওরফে কসাই সেলিম, কাজিপুরের বাসিন্দা মামুন বয়াতী, সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার বাসিন্দা আশা আক্তার ও ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী মুরগি ব্যবসায়ী নগরীর চহটা এলাকার মো. আরিফুর রহমান তালুকদার,

এদের মধ্যে মকবুল হোসেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিমের ভাই। মকবুল ও তার স্ত্রী লিজা বেগম এবং ঝুমুরের সমন্বয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নগরীতে এই র‌্যাকেট চালিয়ে আসছিল।

বুধবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-পুলিশ কমিশনার (নগর বিশেষ শাখা) জুলফিকার হায়দার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

বুধবার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ- বিএমপি সদরদপ্তর সম্মেলন কক্ষ উপ-পুলিশ কমিশনার নগর বিশেষ শাখা বিএমপি মোঃ জুলফিকার আলি হায়দার -এর সভাপতিত্বে “প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায়কারী, ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দানকারী ও প্রতারক চক্রের সক্রিয় ১০ সদস্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বিএমপি কর্তৃক গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীর টাকা উদ্ধার ” সংক্রান্ত এক প্রেস ব্রিফিং সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরেই নগরীতে প্রতারণা করে আসছিল। এরা রং নম্বরের অজুহাতে কথা বলে ধর্ণাঢ্য লোকেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরে দেখা করার কথা বলে ডেকে এনে নির্দিষ্ট কোন বাড়ি কিংবা হোটেলে নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি তুলে ফাঁদ পাতে। এর পরই শুরু হয় প্রতারণা। এমনটি একটি ঘটনার সূত্র ধরে চক্রটির মুল হোতাসহ ১০ জনকে আটক করা হয়।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার ডিবি বিএমপি মোঃ জাহাঙ্গীর মল্লিক, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ডিবি বিএমপি মোঃ রেজাউল করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার ডিবি বিএমপি নরেশ কর্মকার সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ।

(Visited 2 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here