শিক্ষকরা ‘লেট লতিফ’, ক্লাস নিলেন মন্ত্রী!

0
85

Sharing is caring!

- Advertisement -

দিনাজপুর প্রতিনিধি : সময়জ্ঞান যার নেই, কথায় বলে, তিনি নাকি লেট লতিফ। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষরা বুঝি তেমন কিছুই! ঘড়ির কাঁটা বেলা ১২টা ছুঁই ছুঁই। কিন্তু স্কুলে হাজির নেই কোনো শিক্ষক। তাদের অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত ক্লাস নিতে শুরু করে দিলেন স্বয়ং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি!

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ)। বেলা ১১টা ৪০মিনিটে বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম বন্ধ, বাহিরে অপেক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে তখনো আসেনি কোনো শিক্ষক; এ অবস্থা দেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রেণি কক্ষে গিয়ে ক্লাস নিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি।

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বৃহস্পতিবার একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। ফুলবাড়ী থেকে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখে গাড়ি থামিয়ে বিদ্যালয়ে যান মন্ত্রী।

তখন ঘড়ির কাটায় ১১টা ৪০মিনিট, কোন শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি, ক্লাসরুমগুলা বন্ধ। শিক্ষকের আগমনের অপেক্ষায় আছে শিক্ষার্থীরা। এই দৃশ্য দেখে মন্ত্রী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাতাবুর রহমানকে ফোন করেন।

তিনি আরও জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাতাবুর রহমানকে ফোন করার ১০মিনিট পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তখনো অনুপুস্থিত দুই সহকারি শিক্ষক সাইদুর রহমান ও রেজাউল ইসলাম। এসময় মন্ত্রী প্রধান শিক্ষককে ভর্ৎসনা দিয়ে নিজেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং একটি ক্লাস নেন।

এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাতাবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ঘটনার পর থেকেই ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মহেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকেরা তাদের খেয়াল খুশিমত বিদ্যালয়ে আসেন ও যান। বেলা ১১ টা থেকে ১২টায় তারা বিদ্যালয়ে আসেন। আবার বেলা দু’টা বাজলেই চলে যান। এতে শিক্ষার মান একেবারে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তাই এলাকাবাসীও শিক্ষকদের শাস্তি চান।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here