সাংবাদিক’ই যখন সংবাদ শিরোনাম!

0
655

Sharing is caring!

কলামিস্টঃ আর.এম।

- Advertisement -

স্বাধীন রাষ্ট্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর বিভিন্ন সময়ে যে ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে তার অধিকাংশেরই বিচার হয়নি ও হচ্ছে না আর হবার সম্ভাবনাও দেখছিনা।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের একটি ধারাবাহিক প্রতিবেদন তৈরি করলে নিঃসন্দেহে বিষয়টি হবে আঁৎকে উঠার মতো।
বিচারহীনতা অবশ্য সমাজের নানা অপরাধের ক্ষেত্রেই বাড়ছে। কোনো অপরাধ ‘অপরাধ’ বলে বিবেচিত হচ্ছে সেটা নিয়ে কতদিন আলোচনা থাকে তার উপর। কোনো একটি অপরাধ সংঘটিত হলে প্রথম কিছুদিন তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়; তারপর অন্য আরেকটি ঘটনার আড়ালে তা চাপা পড়ে যায়। এই ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির দুষ্টচক্রে বস্তুত পার পেয়ে যায় প্রকৃত অপরাধীরা। আর অপরাধ বাড়তেই থাকে সমাজে।
একসময় গণমাধ্যমে আমরা ‘ফলো-আপ’ প্রতিবেদন পড়তাম। কোনো একটি ঘটনার পর তা নিয়ে দীর্ঘ ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীরা সত্য উদ্ঘাটন করতেন। আজকাল এই ‘ফলো-আপ’ প্রতিবেদনের সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। ফলে নতুন নতুন ইস্যু তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো ইস্যুগুলো নিয়ে আর আলোচনাই হচ্ছে না।
আরেকটি বড় বিষয় হচ্ছে, যে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ও ব্রতই হল ঘটনার পেছনের সত্যটুকু উদ্ঘাটন করা, সমাজের অন্যায়গুলো মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া অথছ তারাই নানাবিধ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিক হত্যার উদাহরণও বাংলাদেশে কম নয়। সাংবাদিকরা একসময় রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের উপর নেমে আসে ভয়াবহ খড়গ। যে মানুষেরা সংবাদ প্রচার বা প্রকাশের পেছনে কাজ করেন, তাদের রক্তাক্ত বা হাতে হাতকড়া পরানো ছবি আমরা গণমাধ্যমে হরহামেসাই দেখি।
এগুলোর বিচার হয়নি। কবে বিচার হবে, আমরা জানি না।
আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় এ যাবত যে মামলাগুলো হয়েছে তার সিংহভাগই দমন ও নিপীড়নমূলক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে যে ধরনের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করা হয়, সে বিষয়ে ৫৭ ধারার প্রয়োগ কিন্তু দেখা যায় না। ৫৭ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে–
“কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।”
আইনপ্রণেতারা বোধকরি প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামালের প্রসঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বক্তব্য কানে শুনেন না। তারা কোনোদিন জামায়াত-শিবিরের পরিচালিত ফেসবুক পেইজ ‘বাঁশের কেল্লা’র পোস্ট দেখেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মের নামে অশ্লীল ওয়াজের ভিডিওগুলোতে যে মানুষরূপী পশুদের বয়ান শোনা যায়, সেগুলোর মাধ্যমেও ৫৭ ধারার লঙ্ঘন হয় না। এই কালাকানুন কেবল প্রয়োগ হয় লেখক-সাংবাদিক-ব্লগার বা প্রতিবাদকারীদের উপর।
আইনকে অন্ধ বানিয়ে আইনের যষ্ঠি যাঁরা, তাঁরাও যেন কিছু দেখতে পান। না কি তাঁরা দেখেও না-দেখার ভান করেন? বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থা এমনই যে সত্য উদঘাটন করতে গেলেও মাঝে মাঝে সংবাদ শিরোনাম হতে হয়।

(Visited 16 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here