এই তাহলে জয়াসুরিয়ার ‘অন্ধকার অতীত’!

0
35

Sharing is caring!

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে দুর্নীতির তদন্তে কোনোরকম সাহায্য না করায় সনৎ জয়াসুরিয়াকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। ফেলে আসা জীবনে জয়াসুরিয়া কিন্তু নিজেকে বিতর্ক থেকে বাঁচাতে পারেননি
- Advertisement -

দুর্নীতির কারণে শাস্তি পাননি। তদন্তে আইসিসিকে যথেষ্ট সহযোগিতা না করাই তাঁর অপরাধ। এ জন্য সনাৎ জয়াসুরিয়াকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কোনো সাহায্য করেননি, এমন অভিযোগ রয়েছে জয়াসুরিয়ার বিপক্ষে। দেশটি ক্রিকেট ইতিহাসে তো বটেই, ওয়ানডে ইতিহাসেই অন্যতম আক্রমণাত্মক এই ব্যাটসম্যানের অতীত জীবন কিন্তু বেশ বিতর্কিত। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়া জয়াসুরিয়া এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন বেশ কয়েকবার।

ছাত্রদের মারার অভিযোগ

২০১৪ সালে জয়াসুরিয়ার বিপক্ষে এই অভিযোগ তুলেছিল শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক দল জনতা ভিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি)। মাতারায় রুহুনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের গায়ে হাত তুলেছিল এক দল দুষ্কৃতকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি উন্নয়ন প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চেয়েছিল তখনকার ক্ষমতাসীন সরকার। ছাত্ররা এর বিরোধিতা করেছিল। তখন সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ উঠেছিল, দুষ্কৃতকারীরা তাঁর উসকানিতেই ছাত্রদের গায়ে হাত তুলেছে। শ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়ক অবশ্য তা অস্বীকার করে বলেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ‘ছিলেন না’। তবে ‘ইন্ডিয়া টাইমস’ সেই সময় জয়াসুরিয়ার মন্তব্য তুলে ধরেছিল, ‘আমি ওখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের বিপক্ষে স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। তবে কারও ওপর আক্রমণ করিনি, ঘটনার সময় সেখানে হাজির ছিলাম না।’

এক টুর্নামেন্টে সই করেছিলেন দুই দলে

শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান ২০১৩ সালে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) লিগ থেকে। অভিযোগ, জয়াসুরিয়া টুর্নামেন্টের এক মৌসুমে দুটি দলে সই করেছেন। দল দুটি ছিল কালিঘাট ক্রিকেট ক্লাব ও মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। শেষ পর্যন্ত দুটি দলকেই খেলোয়াড় তালিকা থেকে জয়াসুরিয়ার নাম বাদ দিতে হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় টুর্নামেন্টে বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে সিএবি।

সুপারি চোরাচালানির অভিযোগ

বোমাটা ফাটিয়েছিল ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্থান টাইমস’। জয়াসুরিয়া এবং আরও দুই ক্রিকেটার ভারতে পচা সুপারি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। গত বছর নভেম্বরে জয়াসুরিয়া এই কাজ করেন জানিয়েছিল সংবাদমাধ্যম। নাগপুরে রাজস্ব কর্মকর্তারা জয়াসুরিয়ার চোরাচালান করা লাখ লাখ টাকার সুপারি হাতেনাতে আটকও করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে জয়াসুরিয়ার নাম। এরপর তাঁকে চিঠি পাঠিয়েছিল ভারতীয় প্রশাসন, মুম্বাইয়ে এসে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য। শ্রীলঙ্কান সরকারকেও ভারতের তরফ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে বাজে মন্তব্য

গত বছর নিদাহাস ট্রফির গ্রুপপর্বে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ম্যাচটি ছিল অঘোষিত সেমিফাইনাল। উত্তেজনার সেই ম্যাচের শেষ দিকে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দলকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের সঙ্গে ভালোয় ভালোয় ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটলেও প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ড্রেসিং রুমের কাচ ভাঙার অভিযোগ ওঠে সাকিবদের বিপক্ষে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ দলকে ‘তৃতীয় শ্রেণির দল’ বলে টুইট করেছিলেন জয়াসুরিয়া।

যৌন বিতর্ক

২০১৬ সালে জয়াসুরিয়ার যৌন সম্পর্কের ভিডিও প্রকাশ হওয়ার বিতর্ক ছড়িয়ে পরে। এতে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব হারান তিনি। বিতর্কিত সেই ভিডিওতে জয়াসুরিয়ার সঙ্গে ছিলেন তাঁর-ই সাবেক সঙ্গী। শ্রীলঙ্কায় প্রচলিত কথা, সঙ্গীর ওপর প্রতিশোধ নিতে ভিডিওটি জয়াসুরিয়া নিজেই ছেড়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here