‘হাচি’ নামের কুকুরছানাটি।।

0
678

Sharing is caring!

লেখক: – আবু বেনিন

- Advertisement -

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ছিলেন এমন ১৫ জন জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন ১০ জন। মজার বিষয়, দু’একজন ছাড়া তেমন কারো মূর্তিই এই ক্যাম্পাসে স্থান পায়নি অথচ স্থান পেয়েছে একটি কুকুর আর তার মালিকের মূর্তি। বলুন তো কেন?

‘হাচি’ নামের এই কুকুরছানাটির জন্মের মাত্র পঞ্চাশ দিনের মাথায় সেটি উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ডক্টর উয়েনো। তিনি আদর-যত্ন দিয়ে হাচি’কে বড় করেছিলেন আর স্বভাবতই হাচি ছিল তার ভীষণ ভক্ত। উয়েনো প্রতিদিন ক্লাস বা পরীক্ষা নিতে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতেন। কুকুর হাচি পায়ে হেঁটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের ট্রেনষ্টেশন অব্দি তাঁকে এগিয়ে দিত আবার বিকেলে একই ভাবে বাসা পর্যন্ত ফিরিয়ে নিয়ে যেত। সব ভালই চলছিল, হঠাৎ উয়েনো ভীষণ অসুস্থ হয়ে ক্যাম্পাসেই মারা গেলেন কিন্তু হাচি’র পক্ষে এ খবর উপলব্ধি করা সম্ভব হলনা। উয়েনো’র মৃত্যুর পরও হাচি প্রতিদিন সকাল-বিকাল ট্রেনস্টেশনে এসে বসে থাকত।

মৃত মানুষ কখনও ফিরে আসেনা তাই দীর্ঘ দশ বছর ধরে দিনের পর দিন এভাবে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা মাথায় নিয়ে স্টেশনে এসে অপেক্ষারত হাচি’র কাছে ফিরতে পারেন নি ড:উয়েনো। সেখানে অপেক্ষারত অবস্থায় হাচি একদিন মারা যায়।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিতান্ত সাধারণ প্রাণীটির মধ্যেও মানুষের জন্য যে শিক্ষণীয় অসাধারণ কৃতজ্ঞতাবোধ নিহিত রয়েছে তা ছাত্র-ছাত্রী, অতিথিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে একটি প্রতিমূর্তি স্থাপন করেছে। এতে দেখানো হয়েছে ডক্টর উয়েনো ফিরে এসেছেন আর হাচি তাঁকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। প্রতিমূর্তিটি মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, যে তোমার উপকার করে, যে ভালবাসে, যে তোমার বন্ধু বা শিক্ষক তাঁর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থেকো।

লেখক: – আবু বেনিন

(Visited 13 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here