অনলাইন ডেস্কঃ
পৃথিবীর ৫০টি দেশে চালু শিশুদের জন্য গণিত ও ইংরেজি শিক্ষার সহজ পদ্ধতি ‘কুমন’ বাংলাদেশে চালু করেছে ব্র্যাক।
সোমবার বিকালে ব্র্যাক সেন্টারে এ পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়, যাতে শিক্ষা দান করা হয় বিশেষভাবে তৈরি কাগজের শিটের মাধ্যমে।
জাপানের কুমন ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট হিদেনোরি ইকেগামি ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মুসা এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিতেও সই করেন অনুষ্ঠানে।
হিদেনোরি ইকেগামি জানান, ১৯৫৮ সালে জাপানের স্কুল শিক্ষক তরু কুমন তার ছেলে তাকেশি কুমনকে সহজে গণিত শেখানোর জন্য এই পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। পরে এই পদ্ধতি বিভিন্ন দেশে সমাদৃত হয়।
তরু কুমনের তৈরি কাগজের শিটের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, “একই রকম কাগজের শিট দিয়ে বিশ্বের ৫০টি দেশে কুমন পদ্ধতির শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে এখন। তবে সব জায়গাতেই মূল পদ্ধতির কিছুটা পরিমার্জন করে দেশীয় কাঠামোর উপযোগী করা হয়।”
সারা পৃথিবীতে এখন ৪৩ লাখ শিশু কুমন পদ্ধতিতে পড়াশোনা করছে জানিয়ে হিদেনোরি ইকেগামি বলেন, “তার মানে এটা কেবল জাপানের শিক্ষা পদ্ধতি নয়, অন্য সব দেশের সঙ্গেই এর সামঞ্জস্য আনা যেতে পারে।”
তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশুর সামর্থ্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই শিক্ষার উদ্দেশ্য। কিন্তু পরিবেশ ও শিক্ষা পদ্ধতির কারণে সেটা সব সময় সম্ভব হয় না।
এর বিপরীতে কুমন কেবল শেখায় না, নিজে নিজে শিখতে পারার আত্মবিশ্বাসও গড়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন কুমন ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মুসা বলেন, প্রত্যেক শিশুর শেখার সামর্থ্য আলাদা। তাদের একমুখীকরণের প্রয়োজনে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়।
“আমরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। কুমন ভিন্ন আঙ্গিকে শিশুদের জন্য সেই কাজটি করে থাকে।”
কুমন বাংলাদেশের প্রকল্প প্রধান নেহাল বিন হাসান জানান, ২০১৪ সালে তারা বাংলাদেশে কুমন পদ্ধতি চালুর জন্য কুমন ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দুটি প্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে এখন তা চালু করা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ধানমণ্ডিতে কুমনের একটি কেন্দ্র চালু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। অক্টোবরে উত্তরায় আরেকটি কেন্দ্র চালু হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদের মধ্যে জাইকার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি হিতোইশি আরা, জেট্রোর আবাসিক প্রতিনিধি দাইশুকো আরাই, ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।