উদ্বেগের কিছু নেই, আমরা নতুন করে কোন ট্যাক্স বাড়াবো না : বরিশাল সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ

0
53

Sharing is caring!

- Advertisement -

হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে উদ্বেগ হওয়ার কোন বিষয় নেই। বর্তমান পরিষদ কোন ট্যাক্স বাড়াইনি, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ে ২০১৬ সালের রেজুলেশনে করা হোল্ডিং ট্যাক্সের সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়েছে। বুধবার (২২ মে) দুপুরে নগর ভবনের তৃতীয় তলার সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্সের জন্য সবে মাত্র মাপ-ঝোপ হয়েছে, বিল তো এখনো যায়নি। আর আমরা নতুন করে কোন ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেইনি। নিয়ামুনযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে কারো ট্যাক্স বাড়ানোও হবে না। এখন আমরা যারা স্থাপনা পরিবর্তন, অর্থাৎ দোতলা থেকে তিনতলা কিংবা টিনের ঘর থেকে ভবন করেছেন আর নয়তো নতুন হোল্ডিং এ ভবন করেছেন তাদের ট্যাক্স ধরার কাজ করছি।

এক্ষেত্রে আমরা ২০১৬ সালের সাবেক পরিষদের রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছি। তিনি বলেন, আমরা ট্যাক্স বাড়াতে চাইনা, তবে চাই সবার মাঝে সমতা বজায় থাক। বিগত দিনে রেজুলেশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করায় অনেকের মনে হচ্ছে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তা নয়, বিগত দিনে যার ট্যাক্স ধরা হয়েছিলো ১ লাখ ৫ হাজার টাকা সে তো দিতো ৫ হাজার টাকা। আবার একই মাপের ভবনে কেউ যদি ৫ হাজার দিতো, তবে আবার কেউ দিতো ৭ হাজার। এছাড়াও নানানভাবে অনিয়ম করে ট্যাক্সের অর্থ এমনভাবে কমিয়ে দেয়া হতো যা নিয়ম বহির্ভূত।

কিন্তু আমরা বর্তমান পরিষদ চাচ্ছি, কেউ বেশি, কেউ কম নয়, সবার মাঝে সমতা বজায় থাক। আর নগরবাসীকেও মনে রাখতে ট্যাক্সের টাকায়ই নগরের উন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নির্ধারিত মাপ-ঝোপেরে পরে ট্যাক্স নির্ধারনের ক্ষেত্রে হাউজ লোন, বাড়ির মালিকের নিজের বসবাস ও মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় টাকার পরিমান কমানোর সুযোগ রয়েছে। এরপর তো আমার মেয়র হিসেবে নিজেরও একটা সুপারিশ করার সুযোগ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে সরকারের আইনের বাহিরে কিছু করার সুযোগ নেই আমার। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয় বরিশালসহ সকল সিটি করপোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্সের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সে অনুযায়ী যদি আমরা ট্যাক্স বাড়াই তবে সেটা বরিশালের প্রেক্ষাপটে নগরবাসীর জন্য কষ্টদায়ক হবে। আমরা তো রাস্তাঘাট-পানিসহ যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা এখনো নিশ্চিত করতে পারিনি।

আবার বরিশালে ১৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়াও বা কয়টি বাসায় রয়েছে। আমরা বর্তমান পরিষদ তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছি। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রনালয়ের সাথে আলোচনা করা হবে। যাতে বরিশালের জন্য আলাদাভাবে ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার মোঃ ইসরাইল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বিগত পরিষদে আহসান হাবিব কামাল মেয়র থাকাকালীন সময়ে বরিশালে নগরবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারনে একটি রেজুলেশন হয়। তবে প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হওয়া স্বত্ত্বেও হোল্ডিং ট্যাক্স সংক্রান্ত কোন কাজই আমাকে করতে দেয়া হয়নি।

২০১৬ সালের জানুয়ারী মাস থেকে নভেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ট্যাক্সের সব কাজ মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রয়েছেন। এমনকি প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার সাক্ষরও তারা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ অবস্থার পর বর্তমান পরিষদের মেয়র আমাকে হোল্ডিং ট্যাক্সের বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। এরপর আমরা মেয়রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থাপনা পরিবর্তন ও নতুন নির্মানকৃত সাড়ে ৪ হাজার ভবনের তালিকা করি। যেগুলো মাপঝোপ নেয়ার আগে বাড়ির মালিককে নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং বাড়ির মালিক অথবা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে মাপঝোপ নেয়া হয়েছে। এরপর যখন ২০১৬ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী স্থাপনা পরিবর্বতন অর্থাৎ দোতলা থেকে তিনতলা বা চারতলা করেছে এমন ভবনের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করতে যাই। তখন দেখাগেলো ট্যাক্সের পরিমান ৫, ৭ বা ১০ গুন বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ৫০-১০০ গুনও হচ্ছে।

অনুসন্ধানে নেমে দেখা গেলো, ২০১৬ সালে নতুন রেজুলেশন হলেও তা কোন ভবন মালিকদের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করা হয়নি। সে সময়ে যার ট্যাক্স আসে ১ লাখ ২ হাজার তাকে ধরে দেয়া হয়েছে ২ হাজার, যার আসে ৯৫ হাজার তার আছে ৪ শত টাকা। আর এসবই নানান অনিয়মের মাধ্যমে আইনবহির্ভুতভাবে করা হয়েছে। সিটির ৫২ হাজার হোল্ডিং থেকে যেখানে ৮০-৯০ কোটি টাকার ট্যাক্স আসার কথা সেখানে আসছে মাত্র ৯ কোটি টাকা। কিন্তু সেই রেজুলেশন অনুযায়ী এখন আমরা কাজ করতে নেমে দেখি নূন্যতম যারা ট্যাক্স দিতেন তাদের ট্যাক্সও লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আর ২০১৮ সালে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাক্স ধরা তা আরো কয়েকগুন বেড়ে যায়। তাই মেয়রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৬ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী আইন মেনে সকলের মধ্যে সমতা আনতে এ কাজ করা হচ্ছে। এমনকি এখন মেয়র, কাউন্সিলরসহ সিটি করপোরেশনের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও ছাড় দেয়া হচ্ছে না।

(Visited 1 times, 1 visits today)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here