বৃহস্পতিবার , ৮ জুন ২০১৭ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. Featured
  2. অন্যান্য খেলার সংবাদ
  3. অন্যান্য ধর্ম
  4. অপরাদ
  5. অর্থনীতি
  6. অলটাইম নিউজ লেটার
  7. আইটি টেক
  8. আইন – আদালত
  9. আইন শৃংখলা বাহিনী
  10. আন্তর্জাতিক
  11. আবহাওয়া বার্তা
  12. ইসলাম
  13. উদ্যোগ এবং পরিবর্তন
  14. ওয়েবসাইট
  15. কবিতা

এ কোন ধরনের নিষ্ঠুরতা?

প্রতিবেদক
Alltime BD News24 .com
জুন ৮, ২০১৭ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
এ কোন ধরনের নিষ্ঠুরতা?

ওর বয়স আনুমানিক ৩৬ বা ৩৭ দিন। ছোট্ট বাঁ গালে গভীর ক্ষত হওয়া জায়গাটি কালচে হয়ে আছে। একই অবস্থা মাথার পেছনে ঘাড়ের দিকের ক্ষত জায়গার। ক্ষত জায়গায় পুঁজ জমেছে। যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করে। খিদে পেলে ঠোঁট বাঁকা করে কাঁদে। মায়ের কোল খুঁজে। নার্সদের কোলে ওঠে আর নামতে চায় না।

গতকাল বুধবার চিকিৎসকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের বিশেষ ইউনিট স্ক্যাবুতে গিয়ে দেখা গেল, চোখ মেলে তাকিয়ে আছে সে। নার্সের হাতের ছোঁয়া পেয়েই ঠোঁট বাঁকা করে কান্না শুরু করল। নার্স শিশুটির মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলছিলেন, ‘কোলে নিলে আর নামতে চায় না। শুধু আদর খুঁজে।’ আর চিকিৎসকেরা বলছেন, তার বেঁচে থাকার ঘটনাটিই অলৌকিক।

হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মনীষা ব্যানার্জি বারবার বলছিলেন, ‘শিশুটির কী দুর্ভাগ্য, তাই ভাবি। ওর খোঁজে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। নিষ্ঠুরতারও একটা শেষ আছে। মাথার পেছনে ও গালে গভীর ক্ষতে পুঁজ আসছে। জায়গাগুলো শুকিয়ে এলে শরীরের অন্য জায়গা থেকে চামড়া এনে স্কিন গ্রাফটিং করতে হবে। এখন আপাতত স্যালাইন ও মুখে খাবার চলছে। অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। রক্তসহ যেকোনো প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকেরা। যত দিন ও ভালো না হয়, তত দিন স্ক্যাবুতে রেখে চিকিৎসা চলবে। এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ শিশুটির চিকিৎসার খরচ বহন করছে।’

শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান মতিঝিল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সবির উদ্দিন শিকদার। তিনি আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রাত ১২টার সময় হোটেল কক্ষের তালা খুলে ভেতরে ঢুকি। সারা ঘরে লাশের গন্ধ ছিল। দেখি খাট ও দেয়ালের মাঝখানে শিশুটি ঝুলে আছে। বের করার পর কয়েকটি আঙুল নাড়াতে দেখি। দ্রুত হাসপাতালে নিই। কম করে হলেও ১৮ ঘণ্টা যুদ্ধ করে ও বেঁচেছে, তা বলাই যায়।’

এখন পর্যন্ত পুলিশ হোটেলের কক্ষ থেকে যে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁর পরিচয় জানতে পারেনি। ওই নারী শিশুটির মা কি না, তা-ও নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

মতিঝিল থানার এএসআই সবির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২১ মে রাত প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে এক দম্পতি হোটেলে আসেন। তাঁদের কোলের নবজাতকটি কান্না করছে এবং তাঁরা খুব ক্লান্ত উল্লেখ করে হোটেলের খাতায় নাম-ঠিকানা না লিখে কক্ষে চলে যেতে চান। হোটেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কক্ষের চাবি দিয়ে দেন। পরের দিনও যখন নাম-ঠিকানা লিখতে আসে না, তখন তাদের সন্দেহ হয়। কক্ষের বাইরে থেকে তালা লাগানো দেখে হোটেলের লোকজন ফেরত যান। কিন্তু দিন শেষে রাত হয়ে যাওয়ার পরও কেউ না আসায় সন্দেহ বাড়ে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা গিয়ে তালা খুলে নারীর লাশ ও নবজাতককে উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা–ও মেলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, এই নারী জাতীয় পরিচয়পত্র করেননি। তাঁর সঙ্গে যে যুবক ছিলেন, তাঁরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে যৌথ মালিকানার হোটেলটির দুই মালিক, ব্যবস্থাপক, বয়সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চারজনই বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।

এ মামলা প্রসঙ্গে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শিবলি নোমান প্রথম আলোকে বলেন, হোটেলের কক্ষে পাওয়া বাসের টিকিটের সূত্র ধরে ঢাকার বাইরে কয়েকটি দল পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কিছু পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে আসামি ধরার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গত ২২ মে রাত ১২টার পর রাজধানীর ফকিরাপুলের আল শাহিন নামের হোটেলে এক নারীর লাশের পাশ থেকে পুলিশ যখন শিশুকে প্রায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে, তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ২০ দিন। ওই নারীর গলায় অনেকগুলো গিঁট দেওয়া ওড়না প্যাঁচানো। আর নবজাতকটি বিছানা ও দেয়ালের মাঝের ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিল। হয়তো বাঁচার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। তাই দেয়াল ও খাটের ঘষায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে তার শরীরে। উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা ভেবেছিলেন যে শিশুটি মারা গেছে। কিন্তু নবজাতককে বের করার পর হাতের আঙুলের নাড়াচাড়া দেখে বুঝতে পারেন সে বেঁচে আছে। তারপরই তারা ছুট লাগান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

(Visited ১৩ times, ১ visits today)

সর্বশেষ - জাতীয়