জেলা প্রশাসক সাইফুজ্জামানের হাত ধরে আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হবে বরিশালবাসী।।

0
435
জেলা প্রশাসক সাইফুজ্জামানের হাত ধরে আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হবে বরিশালবাসী।।
জেলা প্রশাসক সাইফুজ্জামানের হাত ধরে আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হবে বরিশালবাসী।।

Sharing is caring!

- Advertisement -

বরিশাল জেলা প্রশাসন পরিচালিত Barisal – Problem & Prospect/ বরিশাল – সমস্যা ও সম্ভাবনা ফেসবুক গ্রুপের একজন সম্মানিত সদস্য জনাব জাহিদ চয়ন বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কের দুপাশে কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও জারুল গাছের চারা রোপণের আহবান জানিয়ে গত ১১ মে ২০১৭ তারিখে একটি পরিবেশ বান্ধব পোস্ট দিয়েছিলেন। অনেক সম্মানিত সদস্য উক্ত পোস্টে উল্লিখিত প্রস্তাবটি সমর্থন করে এই অভিযানে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উক্ত পোস্টের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক, বরিশাল কর্তৃক ১২ মে ২০১৭ তারিখে বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কের প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়। অতঃপর জনগণের স্বেচ্ছামূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভিযানটি বাস্তবায়নের জন্য মে, ২০১৭ মাসের বরিশাল জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটিতে বরিশাল ফুল সরণি অভিযান নামে একটি অভিযান পরিচালনার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

২. অগ্রগতি:
অপরূপ বরিশালের অধিকতর সৌন্দর্য বিনির্মাণের লক্ষ্যে ‘বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযান’ নামে একটি অভিযান পরিচালনার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক, বরিশাল কর্তৃক ৩০ মে ২০১৭ তারিখে সকলের অভিমত, পরামর্শ ও অংশগ্রহণ কামনা করে Barisal – Problem & Prospect/ বরিশাল – সমস্যা ও সম্ভাবনা ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। অভিযানের রোডম্যাপ ছিল নিম্নরূপ-

প্রস্তাবিত অভিযান:
# অভিযানের প্রস্তুতি পর্ব ও বিভিন্ন কমিটি গঠন : ৩১ মে থেকে ৩০ জুন ২০১৭;
# চারা সংগ্রহ ও গর্তকরণ: ১ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ২০১৭;
# গণঅংশগ্রহণে চারা রোপণ: ১৫ জুলাই ২০১৭, শনিবার, সকাল ১০.০০টা- দুপুর ১.০০টা
# স্থান: বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মোড় থেকে ভোলার দিকে ছয় কিলোমিটার (প্রকৃত পরিমাপে ৪.৮ কিমি)
# গাছের চারার সংখ্যা: ৩০০০ +
# গাছের প্রজাতি: কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও জারুল

উক্ত পোস্টের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক সদস্য লাইক, কমেন্ট দিয়ে এই অভিযানে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া বরিশালের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজ, সমৃদ্ধ হাতেম আলী কলেজ ও আধুনিক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যক্ষ মহোদয়গণ ও শ্রদ্ধেয় ভিসি মহোদয় সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আগামী ১৫.০৭.১৭ তারিখ সকাল দশটায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযানে অংশগ্রহণের আন্তরিক ও সুদৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন।

৩. উপযোগিতা:
বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কের দু’পাশে ১০ বছর মেয়াদে সামাজিক বনায়নের আওতায় বর্তমানে যতগুলো বনজ গাছ রয়েছে তা কয়েক বছর পর কাটা হবে। ফলে এই অভিযানে রোপণকৃত কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও জারুল গাছগুলো যখন বড় হবে তখন বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কের দু’পাশের ফুলেল সরণি অপরূপ সৌন্দর্য্যের আধার বরিশালে অধিকতর সৌন্দর্য্য বিনির্মিত হবে মর্মে আশা করা যায়।

৪. কেন এই অভিযান?
বরিশালের সচেতন জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে বরিশাল জেল খালসহ ২৩টি খাল উদ্ধারের সফল অভিযানের প্রেক্ষাপটে পরিবেশ বান্ধব বরিশালবাসী জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ০৪ জুন ২০১৭ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বরিশালের জেলা প্রশাসক-কে ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় পরিবেশ পদক-২০১৭ প্রদান করা হয়েছে। এই জাতীয় পরিবেশ পদক বরিশালবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় বরিশালবাসী পরিবেশ বান্ধব কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

পরিবেশ বান্ধব, সচেতন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় বরিশালবাসীর সুদৃঢ় অভিপ্রায়ের কারণেই এই ‘বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযান’।

৫. অভিযানের প্রস্তুতি:
‘বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযান’ সফলভাবে সমাপ্ত করার জন্য ০৫ জুলাই ২০১৭ তারিখে প্রস্তুতিমূলক সভা করে বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে সরকারি দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, এনজিও এবং সিটিজেন জার্নালিস্টদেরকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এ অভিযানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণের অভিপ্রায় সকলকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

উল্লেখ্য যে, বাস্তবায়নাধীন এ অভিযানে বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কটি ১০০ মিঃ দৈর্ঘ্যের ৪৮টি গ্রুপে বিভক্ত করে সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রতি ১০০ মিটারের অর্থাৎ প্রতি গ্রুপের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কম/ বেশি ৫০ জনের একেকটি দল থাকবে। ১৬টি গ্রুপ নিয়ে একেকটি ব্লক হবে। প্রতি ব্লকে একটি প্যান্ডেল, সম্প্রচার দল, সাংস্কৃতিক দল, মেডিক্যাল টিম, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, চারা, খুটি, সুতলি ইত্যাদি থাকবে; বরিশাল জেলা প্রশাসন, অন্যান্য সরকারি দপ্তর, বীর মুক্তিযোদ্ধা, চরকাউয়া ও চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিনিধি, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিটিজেন জার্নালিস্টসহ সকলের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। অভিযানটি বরিশাল এফবি টিভিতে লাইভ সম্প্রচার হবে।

৬. অভিযানের সুফল :
‘বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযান’ সফলভাবে বাস্তবায়নের ফলে –
 তিন হাজারের অধিক গাছের চারা রোপণ করা হবে;
 পরিবেশ উন্নত হবে;
 বনজ সম্পদ সৃষ্টি হবে;
 বরিশাল টু ভোলা মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে;
 জনগণের সংঘশক্তির জাগরণ সম্পন্ন হবে।

৭. অভিযানের চ্যালেঞ্জসমূহ :
গণমানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনায় বিভিন্ন ব্যক্তি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় সাধন করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করাসহ রোপিত গাছের চারা পরিচর্যার বিষয়টি একটি বৃহৎ চ্যালেঞ্জ।

৮. চ্যালেঞ্জ উত্তরণের উপায় :
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার, গণমাধ্যমের সহযোগিতা, বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সক্রিয়তা প্রভৃতি বিষয় সমন্বয়ের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জসমূহ অতিক্রম করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

৯. আশাবাদ :
জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণে পরিচালিত ‘বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ অভিযান’ পরিবেশ বান্ধব সামাজিক আন্দোলনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে মর্মে আশা করা যায়।

।ইতি মধ্যে সকল রকম প্রস্তুতি সর্ম্পন্ন করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

---

বরিশাল ফুল সরণি বিনির্মাণ
সকলকে অংশগ্রহণের আহ্বান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here