সিটিজেন জানালিষ্ট বা নাগরিক সাংবাদিকতা কি?

0
1612

Sharing is caring!

- Advertisement -

রিপোর্ট : জাকারিয়া আলম দিপু

সাংবাদিকতা পেশা একট মহৎ পেশা।সাংবাদিকতার বিভিন্ন প্রকারভেদ  রয়েছে।অাধুনিক বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সাথে আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।আমরা অনেকে সিটিজেন জানালিষ্ট বা নাগরিক সাংবাদিকতার নাম শুনি।কিন্তু আমরা অনেকে জানি না সিটিজেন জানালিষ্ট বা নাগরিক সাংবাদিকতা কি?নাগরিক সাংবাদিকতা কি এ নিয়ে লিখছে নাগরিক সাংবাদিক দিপু হাফিজুৃর রহমান

#সিটিজেন_জার্নালিজম
স্বতস্ফূর্ত ও স্বপ্রণোদিত হয়ে গণমানুষের বা আম-জনগণের খবর ও তথ্য সংগ্রহ, পরিবেশন, বিশ্লেষণ এবং প্রচারে অংশগ্রহণ হচ্ছে সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতা।

#বিভিন্ন_নামে_জন_সাংবাদিকতা
প্রান্তীক সাংবাদিকতা (Grassroots Journalism)
নেটওয়ার্ক সাংবাদিকতা (Network Journalism)
ওপেন সোর্স সাংবাদিকতা (Open Source Journalism)
জন-মাধ্যম (Citizen Journalism)
অংশগ্রহণমূলক সাংবাদিকতা (Participatory Journalism)
হাইপার লোকাল সাংবাদিকতা (Hyper local Journalism)
বটম-আপ সাংবাদিকতা (Bottom-up Journalism)
স্ট্যান্ড অ্যালন সাংবাদিকতা (Stand alone Journalism)
ডিস্ট্রিবিউটেড সাংবাদিকতা (Distributed Journalism)

#জন_সাংবাদিকতার_বৈশিষ্ঠ্য
প্রত্যেকেরই সাংবাদিক হিসেবে ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে
স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়
প্রকাশিত অডিও, ভিডিও এবং প্রতিবেদন সম্পর্কে আগ্রহী যে কারো মতামত প্রদানের সুযোগ থাকে
যে কেউ মন্তব্য, বিতর্ক বা আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে
সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রবল থাকে
বিবেকপ্রষূত শুভবুদ্ধি জন-সাংবাদিকতার নৈতিকতার একমাত্র মাপকাঠি

#জন_সাংবাদিকতার_রকমভেদ
মানবিক আবেদনধর্মী বা ফিচারধর্মী ব্লগ
কোনো বিষয়ের ওপর মন্তব্যধর্মী ব্লগ
তাৎক্ষণিক ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নিয়ে ব্লগ
ভিডিও ব্লগ
অডিও ব্লগ
ফটোব্লগ
মাইক্রোব্লগ
পলিটিক্যাল ব্লগ
ট্রাভেল ব্লগ

#আন্তর্জাতিক_অঙ্গনের_কিছু_উদাহরণ
নাগরিক সাংবাদিকতার শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে আমেরিকার নির্বাচন থেকে। এরপর আমরা ৯/১১-এর ঘটনায় অনেক ভিডিও ক্লিপিং দেখেছি, যা পেশাদারদের তোলা নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডটি আব্রাহাম জ্যাপ্রুডার ভিডিওচিত্র ধারণ করেছিলেন একটি সাধারণ ক্যামেরা দিয়ে। আব্রাহামকে আজকের সিটিজেন জার্নালিস্টদের জনক বলে থাকেন অনেকে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভয়বহ সন্ত্রাসী হামলার ভিডিও চিত্র ধারণ করেছিলেন যারা তারা কেউই কিন্তু পেশাদার সাংবাদিক ছিলেন না।

২০০৪ সালে সুনামির আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার লক্ষ্যে ক্ষয়ক্ষতির গুরুত্ব বিবেচনায় ত্রাণ তৎপরতা পরিচালায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনের ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনাটি একজন সাধারণ নাগরিক মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে বিবিসি, সিএনএন ও এমএসএনবিসিসহ অন্যান্য মূল ধারার গণমাধ্যমসমূহ প্রচার করেছে।

২০০৫ সালে আমেরিকার হ্যারিকেন ক্যাটরিনা ও রিতা আঘাত হানলে সাধারণ জনগণই স্বপ্রনোদিতভাবে স্থানীয় খবরাখবর সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছিলো।
তিউনিসিয়ার জেসমিন বিপ্লব কিংবা পরে মিসর, সিরিয়া, লিবিয়াসহ অন্যান্য দেশের আরব বিপ্লব

পাকিস্তানের আবোটাবাদে বিন লাদেনের গোপন আস্তানায় মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সিক্রেট মিশন চলাকালীন সময়ে ঘটনাস্থলের ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্য থেকে সোয়াইব আতাহার নামে একজন জন-সাংবাদিক লাইভ টুইট করেছিলেন। যা সত্যিকার অর্থে ঐদিন কী ঘটেছিল তার সঠিক বিবরণ বলে মনে করা হয়।
২০১০ সালের আরব বসন্ত এবং ২০১১ সালের লন্ডনের দাঙ্গার ঘটনায় জন-সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

#জন_সাংবাদিকতা_বাংলাদেশ
২০০৫ সালে ‘সামহোয়ারইনব্লগ’ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ শিরোনামে বাংলাদেশে জন-সাংবাদিকতার সূচনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘মুক্তমনা’সহ আরো অনেক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ব্লগ এর আর্বিভাব হয়েছে। এছাড়া মূল ধারার গণমাধ্যম ‘বিডিনিউজ২৪.কম’সহ অনেকেই এখন পাঠকের মতামতকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরার লক্ষ্যে সিটিজেন জার্নালিজম কর্নার চালু করেছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুক তরুণ প্রজন্মের পছন্দের শীর্ষে অবস্থান করায় জন-সাংবাদিকতা বিস্তারের অবারিত সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪৯ হাজার এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন ৬ কোটি ৪ হাজার জন (বিটিআরসি, এপ্রিল ২০১৬)। সার্বিক বিবেচনায় যা জন-সাংবাদিকতা বিকাশের অপার সম্ভাবনার দিক নির্দেশক। আগ্রহ, সচেতনতা ও জনকল্যাণমূলক বিবেককে পাথেয় করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একজন জন-সাংবাদিক হিসেবে যাত্রা শুরু করা এখন সময়ের দাবি। তবে এরই মধ্যে আমাদের সামনে জন-সাংবাদিকতার কিছু দৃষ্টান্ত হিসেবে রয়েছে-
বিডিয়ার বিদ্রোহের ঘটনা এবং ঘটনার স্থির চিত্রসমূহ
রাজন হত্যাকান্ড সম্পর্কে জানা এবং প্রতিবাদ
গণজাগরণ মঞ্চ
ভিকারুনন্নেসা নুন স্কুলের ছাত্রী নির্যাতন
গুলশানের ক্যাফে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মানুষের জিম্মি দশা ও জঙ্গীদের গতিবিধির ভিডিও ধারন
বরিশালের জেলখাল পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
এগুলোর অধিকাংশই সম্ভব হয়েছে, সাধারণ মানুষের কারণে, যারা অজান্তেই সিটিজেন জার্নালিজমের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে আপডেট জানিয়ে যাচ্ছেন। জেনে, না জেনে ব্লগাররা অথবা সিটিজেন জার্নালিস্টরা সাম্প্রতিক খবরের সর্বশেষ তথ্যটি তুলে আনতে সক্ষম হচ্ছে পেশাদার গণমাধ্যমের আগে! ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় দেয়া মানেই সময় নষ্ট করা- এমন ধারণা থেকে সরে আসার সময় বোধহয় চলে এসেছে।

#জন_সাংবাদিকতার_ইতিবাচক_দিক
সম্পূর্ণ বিকল্প একটি মাধ্যম, যা বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মতামত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি কর গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাহায্য করবে
প্রাকৃতিক বা মানব সৃষ্ট যে কোনো দৃর্যোগ-দুর্বিপাকে প্রত্যক্ষদর্শীর মতামত ও বর্ণনা প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে
এলিট বা সমাজের প্রভাবশালীদের প্রভাব থেকে মুক্ত
সমাজের প্রান্তীক জনগোষ্ঠীর মূখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ
মূলধারার গণমাধ্যমে অপ্রকাশিত বা গুরুত্বহীন বলে বিবেচিত বিষয় এখানে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে
বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারের প্রভাবমুক্ত
রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ
নির্দিষ্ট কোনো ভৌগলিক সীমানার মধ্যে আটকে না থেকে একজন বিশ্ব নাগরিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়
অংশগ্রহণমূলক সাংস্কৃতিক ভাবধারার বিকাশ
সার্বজনীন কল্যাণে ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি করে

#জন_সাংবাদিকতার_নেতিবাচক_দিকসমূহ
ধর্মান্ধ, উগ্রপন্থী বা সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপ প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে
প্রচলিত মূলধারার গণমাধ্যমের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হতে পারে
বিষয়াশ্রিত এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব প্রভৃতি প্রকট হয়ে উঠতে পারে
অধিকাংশ ক্ষেত্রে জন-সাংবাদিকতা ‘সফট নিউজ’ বা ফিচারধর্মী লেখা প্রচারের প্রবণতা লক্ষ্যণীয়
ক্ষেত্র বিশেষ জন-সাংবাদিকতা পরবর্তী নিরাপত্তাহীনতার সম্ভাবনা

#জন_সাংবাদিকতায়_নীতি_নৈতিকতা
মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কোনো তথ্য-উপাত্তের প্রচার ও প্রকাশ থেকে বিরত থাকা
জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা
ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জন-গুরুত্বপূর্ণ নয় এবং ব্যক্তির মর্যাদাহানীকর কোনো বিষয়ের প্রকাশ ও প্রচার থেকে বিরত থাকা
নিজের বিবেকের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা

#তাত্ত্বিক_তথ্য
Authors Bowma ও Willis এর বক্তব্য হচ্ছে-
এই অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাধীন, বিশ্বাসযোগ্য, সঠিক, বিস্তৃত পরিসরের এবং যথাযথ সম্পর্কযুক্ত তথ্য প্রদান যা গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়।
৯০’র দশকের শেষের দিকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এবং ডটকম ধারণার আর্বিভাব মূল ধারার গণমাধ্যমের আধেয় উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করে। জ্য রোসেনস্ এর মতে প্রচলিত মূলধারার গণমাধ্যমে যারা পাঠক, দর্শক ও শ্রোতা তারাই হচ্ছে জন-সাংবাদিকতার নীতি-নির্ধারক তথা সাংবাদিক, মালিক এবং সম্পাদক। এক সময় যারা শুধু গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত তথ্য তথ্য-উপাত্তের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো, তথ্য প্রযুক্তির অপার সম্ভাবনার এই সময়ে তারাই সংবাদ তৈরি এবং প্রচার করছে।

জন-সাংবাদিকতার একটি গুরত্বপূর্ণ দিক হলো এটা নির্দিষ্ট ভৌগলিক কোনো সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। নির্দিষ্ট ভাষাভাষির সকলেই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসে তার চারপাশের ঘটে যাওয়া ঘটনাসমূহ তুলে ধরতে পারেন, প্রতিবাদ জানাতে পারেন কিংবা একাত্মতা ঘোষণা করতে পারেন।

সিটিজেন জার্নালিজমের মাধ্যমে একজন সচেতন নাগরিক তার নিজের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা সমাজের প্রয়োজনে নিয়োজিত করতে পারেন। আর তাই, সাংবাদিকতার কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা পরিচয় ব্যতিরেকে অনলাইন ভিত্তিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যখন কেউ তার চারপাশের ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা, বিষয় সম্পর্কে নিজস্ব মতামত কিংবা সঠিক তথ্য-উপাত্ত লেখনী, তথ্যচিত্র, ইনফোগ্রাফিক্স, ক্ষুদেবার্তা, অডিও, ভিডিও বা অন্য কোনো ভাবে জনস্বার্থে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসমূহে প্রচার বা প্রকাশ করে, তাহলে তাকে জন-সাংবাদিকতা বলা যেতে পারে।
জুর্গেন হেবারমাসম জার্মানের একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, কিংবদন্তি সমাজবিজ্ঞানী। তার একটি তত্ত্ব আছে, ‘থিওরি অব কমিউনিকেটিভ অ্যাকশন’। এই নামেই তার বইটাও। হেবারমাস দুটি খণ্ডে লেখা এই বইয়ে তার ‘কমিউনিকেটিভ অ্যাকশন’ আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমবারের মতো সমাজের ‘পাবলিক স্পেয়ার’ তথা ‘জনবলয়ে’র ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জনবলয় নিয়ন্ত্রিত হলে সমাজ নিয়ন্ত্রিত হয়।’

#জন_সাংবাদিকতার_উদ্ভব_ও_বিকাশ
নব্বই’র দশকে ইন্টারনেট ভিত্তিক world wide web এর আর্বিভাবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্ভব। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি’র ছাত্র ক্রিস অ্যান্ডারন্স বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সিয়াটলে গৃহীত বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৯৯৯ সালে ‘ইন্ডিমিডিয়া’ (Indy media) নামে জন-সাংবাদিকতার (সিটিজেন জার্নালিজম) প্রথম স্বীকৃত প্লাটফরম প্রতিষ্ঠা করেন।
বহুল ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন গুগলের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফেজবুক ২০০৪ সালে, টুইটার ২০০৬ সালে এবং অ্যাপলে-আই ফোন ২০০৭ সালে। এদের আর্বিভাব এবং উদ্ভাবন জন-সাংবাদিকতার ধারণা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একইসাথে সহজ প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্টফোনের আর্বিভাব জন-সাংবাদিকতা অগ্রযাত্রাকে আরো ত্বরান্বিত করছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ, ছবি, ভিডিও ধারণ ও আপলোড করার সুবিধা জন-সাংবাদিকতা আরও সহজতর করেছে।

তবে স্বীকৃত না হলেও জন-সাংবাদিকতার ধারণা একেবারেই নতুন কিছু নয়। আব্রাহাম জ্যাপ্রুডার জন এফ কেনেডি’র হত্যাকান্ডের ভিডিওচিত্রটি ধারণ করেছিলেন একটি সাধারণ ক্যামেরা দিয়ে। অনেকেই তাকে জন-সাংবাদিকতার জনক বলে মনে করেন।
এখন সিএনএন, বিবিসি এবং আল জাজিরার মতো মূল ধারার গণমাধ্যম অনেক ক্ষেত্রেই জন-সাংবাদিকতার ওপর নির্ভর করছে। সংবাদ সূত্র হিসেবে জন-সাংবাদিকদের ব্যবহারের পাশাপাশি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিটি প্রতিবেদনের শেষাংশে ঘটনাস্থলের আশেপাশের পাঠকদের তাঁদের মতামত বা মন্তব্য তুলে ধরতে অনুরোধ করছে। আর সাম্প্রতিক এই ধারা থেকে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি যে মূল ধারার গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত অনেক সংবাদই প্রথম ছড়িয়ে পড়েছিলো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

#পরিশেষে
কমিউনিটি জার্নালিজম বা সিভিক জার্নালিজমের সাথে সিটিজেন জার্নালিজমকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। কেননা কমিউনিটি জার্নালিজম চর্চিত হয় পেশাদার সাংবাদিক কর্তৃক অথবা যৌথ উদ্যোগে পেশাদার ও অপেশাদার সাংবাদিকদের দ্বারা। এক্ষেত্রে সিটিজেন জার্নালিজম হচ্ছে সিটিজেন মিডিয়ার অন্তর্ভুক্ত যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারী কর্তৃক এর বিষয়বস্তু সরবরাহ হয়। সিটিজেন জার্নালিজমই বেশি প্রচলিত, তবে বিভিন্ন সময়ে এর ভিন্ন নামকরণও ঘটেছে। যেমন : স্ট্রিট জার্নালিজম, পাবলিক জার্নালিজম, ডেমোক্রেটিক জার্নালিজম, পার্টিসিপেটরি জার্নালিজম।

বর্তমানে বাংলাদেশে সিটিজেন জার্নালিজম ভিত্তিক উন্নয়ন সফলতার একটি সম্ভাবনা জেগে উঠেছে। এ্টি বিস্তার লাভ করার সাথে সাথে অধিকতর গুরুত্বের সাথে এর গতিপথ ইতিবাচক রাখতে প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহন করা প্রয়োজন। ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পরার পর যেন মনে না হয়, “আগেই আরো কিছু করার ছিল”!

সর্বপরি, পরিবর্তনের পথের স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধাদের সামাজিক গ্রহন যোগ্যতা ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করলে সিটিজেন জার্নালিজম আন্দোলন জনপ্রিয় এবং বেগবান হবে বলে ধারনা করা যায়।

* লেখাটির তথ্য-উপাত্ত, তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগ্রহের সংমিশ্রন।
সংগ্রহ: দিপু হাফিজুৃর রহমান
নাগরিক সাংবাদিক

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here